একজন পুরুষ ও একজন নারী বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে যখন একসঙ্গে জীবন যাপন করতে শুরু করে, তখনই একটি পরিবারের ভিত্তি স্থাপিত হয়।
এখানে পুরুষকে স্বামী আর নারীকে স্ত্রী বলা হয়। এ দু’য়ের সম্মিলিত ভালবাসাপূর্ণ সামগ্রিক জীবনকেই বলা হয় ‘দাম্পত্য জীবন’। বিয়ে ও দাম্পত্য জীবন মানব প্রকৃতির এক স্বভাবসম্মত বিধান। এ চিরন্তন ও শাশ্বত ব্যবস্থা কার্যকর হয়ে আছে বিশ্ব প্রকৃতির পরতে পরতে, প্রতিটি জীব ও বস্তুর মধ্যেও।
আল্লাহ তা‘আলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন— ‘প্রত্যেকটি জিনিসকেই আমি জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছি।’ [সূরা ৫১ যারিয়াত: ৪৯]
মানুষের পরিবার ও পারিবারিক জীবন হচ্ছে সমাজ জীবনের ভিত্তি প্রস্তর ও ইবাদতও বটে।
বিয়ে ছাড়া অন্য কোন পন্থায় পরিবার ও পারিবারিক জীবন গড়ে উঠতে পারে না। পৃথিবীর প্রথম মানব হযরত আদম (আ.) ও প্রথম মানবী হযরত হাওয়া (আ.)-কে কেন্দ্র করে মানব জাতির প্রথম পরিবার গড়ে উঠেছিল জান্নাতে। এই প্রথম পরিবারের সদস্যদ্বয় স্বামী ও স্ত্রীকে লক্ষ্য করেই মহান আল্লাহ বলেছিলেন, ‘হে আদম, তুমি ও তোমার স্ত্রী জান্নাতে একত্রে বসবাস কর এবং যেখান থেকে মন চায় তোমরা দু’জনে অবাধে পানাহার কর। কিন্তু এই বৃক্ষের নিকটবর্তী হবে না; তাহলে তোমরা অন্যায়কারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’ [সূরা বাকারা: ৩৫]
বিবাহ কেন্দ্রিক পরিবারের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে মহান আল্লাহ জান্নাতেই আদম ও হাওয়া (আ.)-এর বিবাহের ব্যবস্থা করেন। জান্নাত চির সুখের স্থান।
বাধাহীন, কষ্ট-ক্লেশহীন জীবন হলো জান্নাতী জীবন। সেই জান্নাতেও কিন্তু বিবাহপূর্ব নারী ও পুরুষের সহঅবস্থান বৈধ করা হয়নি এবং সেখানেও অবাধে পানাহার করার স্বাধীনতার পাশাপাশি একটি মাত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। আর তা হলো, একটি নির্দিষ্ট বৃক্ষের ফল ভক্ষণের নিষেধাজ্ঞা। শুধুমাত্র ফল ভক্ষণের নিষেধাজ্ঞাই নয়, বরং উক্ত বৃক্ষের কাছে যেতেও নিষেধ করা হয়েছিল।
উল্লিখিত আয়াতে ইসলামী পরিবার ও পারিবারিক জীবনের বহু দিকনির্দেশনা লুকিয়ে আছে।