Top

Welcome to Official Website of Logon Marriage Media

Mail :
info@logonmarriagemedia.com
Call Us :
+88 01715259787
মহররম মাসে বিয়ে করা কি ঠিক?

মহররম মাসে বিয়ে করা কি ঠিক?

হিজরি বছরের প্রথম মাস মহররম। কুরআনের ঘোষণায় সম্মানিত ও মর্যাদার মাস এটি। অথচ এ মাসের বিয়ে-শাদির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাওয়াব ও ইবাদতের আমল ঠিক নয়, এমনটি মনে করেন অনেকে। বাস্তবেই কি এ ধারণা বা বিশ্বাস সঠিক? মহররম মাসে কি বিয়ে-শাদি করা যাবে না? এ সম্পর্কে ইসলামের নির্দেশনাই বা কী?

ইসলামের ইতিহাসে নানান কারণে মহররম মাস সর্বাধিক পরিচিত। এ মাসটি আল্লাহর গণনায় ১২ মাসের মধ্যে যে ৪টি মাসকে মর্যাদা ও সম্মানিত করেছেন, তার মধ্যে একটি মাস হলো মহররম। এ মর্যাদার মাসে মুমিন মুসলমান নারী-পুরুষের বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করা যাবে না বা তা অশুভ বা কুলক্ষণে মর্মে সমাজে প্রচলিত ধারণা সঠিক নয়। বরং এ ধারণা পোষণ করা একটি ভুল বিশ্বাস ও কুসংস্কার।

মহররম মাসে বিয়ে করা যাবে না- এ রকম কোনো কথা বা প্রমাণ কুরআন এবং হাদিসে নেই। মর্যাদার মাস মুহররম নিয়ে এসব ভ্রান্ত ধারণা পোষণ করা ইসলামি শরিয়তে নিষিদ্ধ। কেননা হাদিসের পরিভাষায়, 'কোনো বিষয়কে কুলক্ষণে মনে করাকে শিরক বলা হয়েছে।' (আবু দাউদ)

অন্য যে কোনো দিন ও মাসে মুমিন মুসলমান যেসব ভালো কাজগুলো করে থাকেন, সেসব ভালো কাজগুলো মহররমসহ সম্মানিত ৪ মাসে বেশি বেশি করা উচিত। বিয়ে-শাদি যেহেতু একটি ভাল ও কল্যাণকর কাজ। তাই এ মাসে বিয়ে-শাদিও করা যাবে। এতে কোনো দোষ, অশুভ ও কুলক্ষণে নেই।

যে ভুল বিশ্বাসে সমাজে এ কুসংস্কার প্রচলিত

মহররম মাসে বিয়ে করা যাবে না মর্মে যে ভুল বিশ্বাস সমাজে বেশ প্রচলিত আছে, তাহলো- মহররম মাস একটি অপয়া মাস ও কুলক্ষণে মাস। বিয়ে শাদির জন্য এটি খারাপ সময়। এটা শোকের সময় বা মাস। তাই এ মাসে বিয়ে শাদি করা ঠিক নয়। এ ধারণাটিই মূলত কুসংস্কার ও ভুল।

মুহাররম মাসে মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ে স্থায়ী এক ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রাণ প্রিয় দৌহিত্র হজরত ইমাম হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুকে নির্মমভাবে শাহাদাত করা হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনেকে শোক পালন করে থাকেন। আর এ কারণেই অনেকে শোকের মাস হিসেবে এ মাসে বিয়ে-শাদি করাকে কুলক্ষণে ও অশুভ মনে করেন।

হজরত ইমাম হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুর শাহাদাত মুসলিম উম্মাহর জন্য অবশ্যই অত্যন্ত হৃদয় বিদারক ঘটনা। কিন্তু এ কারণে এ মাসের কোনো ভালো কাজকে অশুভ বা কুলক্ষণে ও অপয়া বলা একবারেই ঠিক নয়। কেননা ইসলামের দৃষ্টিতে সময় (দিন, মাস) অশুভ ও অপয়া হয় না। কোনোভাবেই মন্দ হতে পারে না।

অন্যদিকে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এ মাসে পয়গাম্বর হজরত মুসা আলাইহিস সালামের বিজয়ের ঘটনা ঘটিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সে ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিজে রোজা রেখেছেন এবং অন্যদের রোজা রাখতে বলেছেন। হাদিসে এসেছে-

হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদিনায় এসে দেখলেন, ইয়াহুদিরা আশুরার দিন রোজা পালন করছে। তখন তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, এটা কিসের রোজা?

তারা (ইয়াহুদিরা) বলল, এটা একটা উত্তম দিন। আল্লাহ তাআলা এ দিন বনি ইসরাইল জাতিকে তাদের দুশমন (ফেরাউন)-এর আক্রমণ থেকে নিরাপদ করেছেন। তাই (হজরত) মুসা আলাইহিস সালাম এ দিন রোজা রেখেছিলেন।

তখন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমাদের চেয়ে আমিই (হজরত) মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর (আদর্শ পালনে) বেশি হকদার। কাজেই তিনি নিজে আশুরার রোজা রাখলেন এবং অন্যদেরকেও রোজা রাখতে বললেন।’ (বুখারি,মুসলিম, ইবনে মাজাহ, আবু দাউদ, মুসনাদে আহমাদ, বায়হাকি)

সুতরাং মহররম মাসকে অশুভ, কুলক্ষণে ও অপয়া বলা একটি ভুল বিশ্বাস ও কুসংস্কার। মুমিন মুসলমানকে এ ভুল বিশ্বাস ও কুসংস্কার থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এ বিশ্বাস ত্যাগ করা প্রত্যেকের ঈমানি দায়িত্ব।

Our Blog