জীবনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপের একটি হচ্ছে বিয়ে। আর এ বিয়ে নিয়ে সবারই থাকে অনেক পরিকল্পনা। তবে সামাজিক প্রেক্ষাপটে অনেকেই নিজের সিদ্ধান্তে পরিকল্পনামাফিক বিয়ে করতে গিয়ে হিমশিম খান কিংবা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না।
অনেকেই বিয়ে করতে চান না, নিজের মতো করে সময় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চান। কারণ, তাঁদের মাথায় ঘুরতে থাকে বিয়ের পর একটার পর একটা লিস্ট তৈরি রয়েছে। আজ বিয়ে করো, কালকের মধ্যে সন্তান ধারণ করো, পরশু তাকে স্কুলে ভর্তি করো—এ রকমই পরপর প্রত্যাশার চাপ থেকে অনেকের মধ্যেই বিয়ে করব কি না, এ রকম একটি দ্বিধা মাথার মধ্যে ঘুরতে থাকে। তাতে একধরনের ভয় তৈরি হয়। এ ক্ষেত্রে মনে রাখা দরকার, এর বেশির ভাগই বাইরে থেকে চাপানো একধরনের চাপ। এসব কিছু সামাল দেওয়ার জন্যই মানসিক প্রস্তুতি প্রয়োজন। জন্ম, মৃত্যু, বিয়ে—এই তিন বিষয়ই মানুষের জীবনে অজানা থাকে। তবে জন্ম ও মৃত্যু নিয়ে মানুষ যতটা না ভাবে, বিয়ে নিয়ে তার চেয়ে বেশি ভাবে। আর এ বিয়ে আর বিবাহিত জীবন নিয়ে একেকজনের ভাবনা একেক রকম। কেউ বিয়ে বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেন, কেউ দেখেন নেতিবাচক হিসেবে। আমাদের সমাজব্যবস্থায় বিয়ে ব্যাপারটি কারও কাছে প্রকৃতিগত মানসিক, শারীরিক বা সামাজিক চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে একজন পুরুষ ও নারীর সম্পর্কের স্বীকৃত বন্ধন। বিয়েটা কারও কাছে যেমন ভয়ের কারণ, আবার কারও কাছে আনন্দের। সবকিছু নির্ভর করছে বিয়ে সম্পর্কটির ব্যাপারে কে কতটা শ্রদ্ধাশীল ও দায়িত্বশীল, তার ওপর। বিবাহিত জীবন কেমন হবে, তা নির্ভর করে স্বামী–স্ত্রী উভয়ের ওপর। এত কিছুর পরও আমাদের জীবনে বিয়ে একটি অন্যতম অধ্যায়। তবে জীবনের এ গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়টির শুরু করতে সামাজিক বা পারিবারিক চাপে পড়ে মনের বিরুদ্ধে বিয়ে করছেন না তো?